আশুলিয়ায় স্কুল ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া এক্সপ্রেস:

আশুলিয়ায় মারিয়া আফরিন প্রান্তী (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রী কে পিটিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানি করেছে স্থানীয় হিমেল নামের এক বখাটে । পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার তাজুপরের দিয়াখালীর দেওয়ান মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তোভোগী মারিয়া আফরিন প্রান্তী স্থানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী। সে তার দাদা-দাদীর সাথে স্থানীয় আমাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকছেদ পুর এলাকায়।

বখাটে হিমেল স্থানীয় প্রভাবশালী ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মোঃ ফজলুল হক মন্ডল এর ছেলে। সে উত্তরার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে বলে জানা যায়।

ভুক্তোভোগী মারিয়া আফরিন প্রান্তী বলেন, “গত ১৬ ডিসেম্বর তার হাতের মুঠোফোনটি হিমেল জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। পরে তার মোবাইলের ম্যাসেজ গুলো চেক করে গালাগালি ও মারধর করে। সে থাপ্পর মারতে মারতে দুই চোয়াল ফুলায় ফেলছে, পরে আমি চিকিৎসা নিছি ।” “আবার এই তিন দিন আগে ঝড়ের দিনেও আমার বাড়ি এসে আমার ফোন নিয়ে যায় এবং গলা চেপে ধরে আর বলে দেখি তুই কার সাথে কথা বলিস কে কে তোকে ফোন দেয়। এই বলে আমার ফোনটি নিয়ে যায়।”

আরো বলেন “গতকাল আমি ফোন দিয়ে বলেছি যা হওয়ার হয়েছে এখন আমার ফোনটা দিয়ে যান। বলে তুই নিয়ে যা। আমি বলছি আমি গেলেতো আপনি শুধু আমাকে মারেন। পরে সে বলে রাস্তায় কি লোকজন নাই। তুই আয়, পরে আমি রিক্সা নিয়ে গেলে জোর করে আমার রিক্সায় চরে আমাকে মারধোর করতে শুরু করে। এবং তৈয়বপুর এলাকায় নিয়ে যায়। এ সময় রিক্সা চালক বলে আপু কাদছে আর মাইরেন না। সে বলে তুই চোপ থাক, তখন রিক্সা চালক আমাকে বলে আপু আপনিতো আমাকে ঝামেলায় ফেলে দিলেন। পরে রিক্সা চালক চলে যায়। পরে ও আমাকে রিক্সা থেকে নামিয়ে ওর বন্ধুদের ফোন দেয় এবং অনেক মারধর করতে করতে রাজ পার্কের দিকে আমাকে নিতে থাকে, না যেতে চাইলে লাথি মারে, থাপ্পর মারে পরে ওখানে গেলে আরো দুইটা ছেলে আসে বাইক নিয়ে। পরে আমাকে ওইখানে একটা টং ছিলো সেখানে আমাকে উঠায়।

আমি অনেক কান্না করতে ছিলাম। ওরা আমাকে বলে তোকে আজকে গাঁজা খাওয়াবো। অন্যদেরকে বলে ফেসবুকে লাইভ দিতে এবং এ সময় আমার সাথে অনেক গুলো সেলফিও তুলে। পরে আমার বুকে লাথি মেরে টং থেকে ফেলে দেয় পরে ভয়ে ওর বন্ধুরা চলে যায়। কিছুক্ষন পরে আসলাম নামের একজন লোক আমাদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে আমি কেঁদে দেই । পরে সে আমাকে উদ্ধার করে তার বাসায় নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উদ্ধারকারী আসলাম মোল্লা বলেন, আমি ওই জায়গা দিয়ে যওয়ার সময় একজন ছেলে ও মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি । যাদের দেখে মনে হয় মেয়েটি কান্না করছে এবং ছেলেটি রাগান্নিত, পরে আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে ছেলেটি জবাব দেয় কিছু হয় নাই। তৎক্ষনাত মেয়েটি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। পরে মেয়েটি বলে উনি আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে আসছে এবং অনেক মারধর করছে। এর মধ্যে ছেলেটি আমার উপর রেগে বলে আপনার কি সমস্যা আপনি চলে যান। তখন আমি ধমক দিলে ছেলেটি পালিয়ে যায়। মেয়েটি থানায় যেতে চাইলে আমি তাকে রিক্সায় ভাড়া করে আমার বাসায় পাঠাই এই বলে যে তুমি ছোট মানুষ থানায় গিয়ে কি করবা, গেলে তোমার পরিবারের সাথে যাও। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ছেলের বাবা ফজলুল হক মন্ডল বলেন, ওই মেয়ের দাদা-দাদী তাদের নাত্নীকে দিয়ে ব্যবসা করে। এলাকায় ওদের ব্যাপারে হাজার হাজার প্রমান আছে। কিসের ব্যাবসা জানতে চাইলে তিনি জানান দেহ ব্যবসা করে এবং অনেকের গাড়িতে উঠিয়ে দেয়। এভাবেই আমার ছেলেকে ফাসিঁয়ে দিয়েছে। এই বলে তিনি সব এরিয়ে যান এবং বিষয়টি অস্বাকীর করেন।

আশুলিয়া থানার এসআই সাজ্জাদুর রাহমান বলেন, এ ব্যাপরে একটি অভিযোগ পেয়েছি, গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, মারধরের ঘটনা সত্য কিন্তু এখনো মামলা হয় নাই। তাই কাউকে আটক করা হয় নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here