সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝড়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

Print Friendly, PDF & Email

খেলাধুলা ডেস্ক: প্রথমে সৌম্য সরকারের এবং পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এর ঝড়ে ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল হাফ সেঞ্চুরি ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাস গড়েণ বাংলাদেশ।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকে ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। কিন্তু দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে। ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহীম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান করে আউট হলে জয়টা আরও কঠিন হয়ে যায়।

সবমিলিয়ে ২ চার ও ৫ ছয়ের মারে মাত্র ২৪ বলে ৫২ রান করে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ করলো ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৪ ওভারে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভূত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

এর আগে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ছয়বার ত্রিদেশীয় কিংবা তারও বেশি দেশ নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কিন্তু টেস্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার পর গত ১৯ বছরে সেই অধরা সাফল্যটা কোনোভাবেই ধরা দিচ্ছিল না। অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই অধরা শিরোপাটায় প্রথমবারেরমত হাঁত ছোঁয়ানোর সুযোগ পেলো টাইগাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here