বসন্তের পাখি ছোট বাউরি

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক: পাখির বাংলা নাম, ‘ছোট বসন্ত বাউরি’। ইংরেজি নাম, ‘কপারস্মিথ বারবেট (Coppersmith Barbet)। বৈজ্ঞানিক নাম, haemacephala। এরা নানান নামে পরিচিত, যেমন বসন্ত বাউরি, বসন্ত বাওড়ি, বসন্ত বৌরি ইত্যাদি। বসন্তকালে এদের মেলে। গ্রামের নির্জন রাস্তা ধারে হাঁটলে প্রজাতির ‘টুক-টুক-টুক..’আওয়াজ কানে আসে। অনেক দূর থেকে শোনা যায় সে আওয়াজ। হঠাৎ আওয়াজটি কানে গেলে যে কেউ কামারের হাতুড়ি পেটার আওয়জি মনে করে পারেন। বিদঘুটে আওয়াজ হলেও সুর রয়েছে চমৎকার তাল-লয়। শোনার আগ্রহ জাগে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এরা আকারে চড়–ই পখির সমান হলেও অনেক উচ্চ স্বরে ডাকতে পারে। পাখি দেখতে ভারী চমৎকার। প্রথম দর্শনেই ভালো লাগে।


সাধারনত এরা বসন্তকালে আসে। অন্য সময়ে চলে যায় আড়ালে- আবডালে। তাই বলে এরা পরিযায়ী নয়। দেশি প্রজাতির পাখি। হরেক প্রজাতির দেখা মিলে দেশে। তারমধ্যে এরা অতি সুলভ দর্শন। ঢাকা শহরেও হরহামেশাই দেখা মেলে। চোখ-কান খোলা রাখলে রাজধানীর উদ্যানগুলোতে নজর পড়তে পারে এদের। উঁচু উঁচু গাছে এদের বিচারণ। ঘন পাতার আড়ালে থাকতে পছন্দ করে করে।


বৃক্ষচারী পাখি; পারতমাটিতে নামে এরা। প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৬-১৪ সেন্টিমিটার। কপাল, বুক পরিষ্কার লাল। চোখের দু’পাশ থুতনি ও গলা হলুদ। মুখবয়ব কালো। পিঠ ঘাসরঙা সবুজ। নিজের দিকে খাড়া খাড়া মোটা রেখা। ওড়ার পালক কালচে। বুক উজ্জ্বল লালের সঙ্গে সোনালি হলুদের পট্টি লেজ খাটো। লেজের শেষপ্রান্তে সবুজাভ নীল। চোখের মনি কালচে- ধাতব। ঠোঁটের গোড়ায় ক’টি শক্ত লোম। পা বাদামি- লালচে। স্ত্রী- পুরুষ দেখতে একই রকম


প্রধান খাবার: ছোট ছোট বুনোফুল। বট-পাকুড়, বকুল, দেবদারু, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, জামরুল ইত্যাদি ফলের প্রতি আসক্তি বেশি। ফল সংকটে পোকামাকড়েও ভাগ বসায়।
প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল। অঞ্চলভেদে সময়ের হেরফের হয়। যেমন :- ভারত, শ্রীলষ্কায় বাসা বাঁধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here